মে দিবস তাৎপর্য, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। রচনাঃ মে দিবস / শ্রমিক দিবস রচনা (May Day Significance, Rochona Labor Day)

“শ্রমের মর্যাদা, মূল্য ও ন্যাঘ্য মজুরি শুধু নয়, যুক্তিসংগত কার্যর্সময় নির্ধারণের আন্দোলনের ১৩৬ বছর। শ্রমিক দিবস রচনা সকল শ্রেণির জন্য দেওয়া হলো এসএসসি, এইচএসসি, জেডিএস, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণিন জন্য সহজ ভাবে লেখা হয়েছে। মে দবিস রচনা শ্রমছাড়া কোনো কিছুই উৎপাদন করা যায় না, এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই।”

মে দিবস তাৎপর্য বা শ্রমিক দিবস রচনা
মে দিবস তাৎপর্য বা শ্রমিক দিবস রচনা
মে দিবস তাৎপর্য বা শ্রমিক দিবস

ভূমিকা

শ্রমিক দিবস ১৮৮৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সকল ঘটনা পয়েন্ট হিসাবে দেওয়া হলোঃ শ্রমের মর্যাদা, মূল্য ও ন্যাঘ্য মজুরি শুধু নয়, যুক্তিসংগত কার্যর্সময় নির্ধারণের আন্দোলনের ১৩৬ বছর। গত ১৩৬ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে মানুষের সমাজ ও সভ্যতার। শ্রমছাড়া কোনো কিছুই উৎপাদন করা যায় না, এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই।এমন সময় আসবে যখন কবরের অভ্যন্তরে শায়িত আমাদের নিশ্চুপতা জ্বালাময়ী বক্তৃতার চেয়ে বাক্সময় হবে এবং তা শ্রমিকশ্রেণীর বিজয় লাভের শেষ সংগ্রাম পর্যন্ত লড়াইয়ে প্রেরণা যোগাবে । এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস চীর স্মরণীয় হয়ে থাকবে । - আগস্ট স্পাইজ ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা কথাগুলো বলেছিলেন ।

তাঁর সেদিনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী আজ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে । ব্যর্থ হয় নি , তাদের সেই আত্মদান । শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে তা এক স্মরণীয় অধ্যায় । তাঁদেরই আত্মদানে প্রতিষ্ঠিত ' মে দিবস ' পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক দিবসে । মে দিবস , আজ তাই হাজার হাজার শ্রমিকের পায়ে চলা মিছিলের কথা , আপসহীন সংগ্রামের কথা । মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকের এক হওয়ার ব্রত । আন্তর্জাতিক সংগ্রাম আর সৌভ্রাতৃত্বের দিন । মে দিবসের অর্থ শ্রমজীবী মানুষের উৎসবের দিন , জাগরণের গান , সংগ্রামে ঐক্য ও গভীর প্রেরণা । মে দিবস শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার , ধনকুবেরের ত্রাস , দিন বদলের শপথ ।

এতো উন্নতি-অগ্রগতি সাধিত হলেও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি? কতক্ষণ কাজ করলে একজন শ্রমিক কত মজুরি পাবে? শ্রমিক জীবন এবং ভবিষ্যৎ শ্রমমুক্তির পরে তার সন্তানের জীবন কেমন হবে?

অসংখ্য প্রশ্নের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ থেকে দাবি উঠেছিল আট ঘণ্টা কর্মদিবস চাই। এই দাবির অন্তরালে ছিল আর একটি দাবি—আট ঘণ্টা কাজ করে এমন মজুরি চাই যেন তা দিয়ে আমার পরিবার নিয়ে মানসম্মত জীবনযাপন করতে পারি। কিন্তু শ্রমিকদের দাবি যতই ন্যায়সংগত মনে হোক না কেন, মুনাফা ও মজুরির সংঘাত এত তীব্র যে আলোচনার পথে নয় বরং নিষ্ঠুর দমন ও রক্তাক্ত পথে সরকার ও মালিকরা সেই আন্দোলন দমন করতে চেয়েছিল।

মে দিবসের ইতিহাস

আন্দোলনের পথ কখনই মসৃণ ছিল না । মসৃণ থাকে না। ছিল নানা ঘটনার ঘাতপ্রতিঘাতে , জুলুম , অত্যাচারে , প্রতিরোধে , ধর্মঘটে , মিছিলে , সংগ্রামী ঐক্যে রক্তলাঞ্ছিত । মে দিবস একদিনে এই আন্তর্জাতিক চেহারা পায় নি । এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস । রয়েছে অনেক রক্তঝরার কাহিনি । জন্মলগ্ন থেকেই শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস । শ্রমিকশ্রেণীকে উদয়াস্ত কাজ করতে হবে । আঠারো ঘণ্টা , কুড়ি ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল কাজের সময় সীমা । আলেকজান্ডার ট্রাকটেনবার্গ মে দিবসের ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন : মে দিবসের জন্মকাহিনী অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে কাজের ঘণ্টা কমাবার আন্দোলনের সঙ্গে । ১৮০৬ সালে কারখানায় কুড়ি ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল বাধ্যতামূলক কর্মপ্রহর। ১৮২০-১৮৪০ সাল পর্যন্ত দশ ঘণ্টা কাজের দাবিতে অনেক আন্দোলন ও ধর্মঘট হয়। ১৮৬২-১৮৬৩ সালে গড়ে ওঠে ট্রেড ইউনিয়নের রাজনৈতিক ভিত্তি। দাসপ্রথা ওঠে গেল। নিগ্রোরা হল শ্বেতাঙ্গদের বন্ধু। এই সময়ে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মালিকরা কম মজুরিতে নারী শ্রমিক নিয়োগ করত । ১৮৬৫ সালে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের পর থেকেই সেখানকার শিল্পের বিকাশ ঘটে দ্রুত গতিতে । সেই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের প্রসারও ঘটে দ্রুত । ১৮৮১ সালে নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ আমেরিকান ফেডারেশ অব লেবার ' । ১৮৮৪ সালের ৭ অক্টোবর সেখানে চতুর্থ সম্মেলনে গৃহীত হয় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত , বলা হয় ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে সব শ্রমজীবী মানুষ আট ঘণ্টার বেশি কোনওভাবেই কাজ করবে না । ওই দিনটিতে তাই পাঁচ লক্ষ শ্রমিক প্রত্যক্ষভাবে ধর্মঘটে যোগ দেন । শাসকদল এই ঐক্যবদ্ধ বিশাল শ্রমিক সমাবেশ ও ধর্মঘট দেখে ভয়ে পিছিয়ে যায় । ঐতিহাসিক মে দিবসের জন্ম মে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য শ্রমিকদের দাবি - দাওয়া আদায় । আর এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল দেড়শ বছর আগে অস্ট্রেলিয়াতে ।

কিন্তু কর্মঘণ্টা কতক্ষণ হবে?

আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি এবং কর্মপরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও আজও শ্রমিকদের পেশাগত জীবনে নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকারগুলো অর্জিত হয়নি। চলমান করোনা মহামারিতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, এ দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, মৌলিক মানবিক অধিকারগুলো কতটা ভঙ্গুর?

তৈরি পোশাকশিল্পের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বেতনের দাবিতে সমবেত হচ্ছেন, বিক্ষোভ করছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, যা সচরাচর মে দিবস নামে পরিচিত। প্রতি বছর পহেলা মে তারিখে বিশ্বব্যাপী এই দিবস উদ্যাপিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।

বিশ্বের কতটি দেশে শ্রম দিবসে ছুটি থাকে?

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পহেলা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। মে দিবস, শ্রমিক দিবস বা বিশ্বশ্রমিকদিবস, যে নামেই ডাকা হোক না কেন, দিনটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান-সংহতি জানানোর দিন হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে ১৯০৪ সাল থেকে।

বাংলাদেশেও এই দিবসটি আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয়:

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের শ্রমিকদের সমাজ কতটুকু শ্রদ্ধা বা সম্মান দেয় এ বিষয়ে এখনো নানা মতভেদ রয়েছে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে গণপরিবহন, হাট-বাজার, সমাজ কোনো জায়গাতেই শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ আমরা এখনো বেশভূষা দেখেই মানুষকে মূল্যায়ন করি। আমাদের দেশে ইতিমধ্যে কলকারখানা পোশাকশিল্পে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু দুর্ঘটনা থেকে লক্ষ করা যায়, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়টিতে বাংলাদেশে এখনো সন্দিহান।

এ ছাড়াও মজুরির দিকটিতেও বাংলাদেশের শ্রমিকরা আশাহত। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরেও ন্যাঘ্য মজুরি তাদের কাছে অনেকটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা। বিশ্বের তৈরি পোশাকশিল্পের বড় বড় কারখানার পাঁচ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চার দিনে যে আয় করেন, তা বাংলাদেশের একজন নারী পোশাকশ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের সমান।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস /মে দিবস ঘটনা

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো নগরীর লক্ষ লক্ষ শ্রমিক দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণ ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট শুরু করে । ব্যাপক আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ৩ ও ৪ মে । কিন্তু আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করার জন্য পুলিশ গুলি চালায় এবং ১০ জন শ্রমিক প্রাণ হারায় । সেই সঙ্গে বহু শ্রমিক আহত হয় । গ্রেফতার হয় অগণিত শ্রমিক । গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ৬ জনকে পরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয় । জেলখানায় বন্দি অবস্থায় আত্মহনন করেন এক শ্রমিক নেতা । শ্রমিক আন্দোলনের এই গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বের সকল দেশেই মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয় মহান মে দিবস। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার—শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলি বর্ষণ শুরু করে।

ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লভিনে। ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এর পরপরই ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

মে দিবস উৎসবের তারিখ ঘোষণা

পরে ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ব জুড়ে পহেলা মে তারিখে মিছিলের শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সব সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সেই সম্মেলনে বিশ্ব জুড়ে সব শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনেক দেশে শ্রমজীবী জনতা মে মাসে ১ তারিখে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের দাবি জানায় এবং অনেক দেশেই এটা কার্যকর হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট এবং কিছু কট্টর সংগঠন তাদের দাবি জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসেবে বেছে নেয়। কোনো কোনো স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে।

পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চিন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই পহেলা মে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সেসব দেশে এমন কি এ উপলক্ষ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতেও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে।

আমেরিকা ও কানাডাতে কখন শ্রমদিবস পালন করা হয়?

আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমদিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোক্তা। হে মার্কেটের হত্যাকাণ্ডের পর আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পহেলা মে তারিখে যে কোনো আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ সালেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রমদিবস পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।

বাংলাদেশ শ্রমিক আইনগত এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা

শ্রমআইন ২০০৬-এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো হলো: পরিচ্ছন্নতা, বায়ু চলাচল এবং তাপমাত্রা ব্যবস্থা, কৃত্রিম আর্দ্রকরণ, জনবহুলতা, আলোর ব্যবস্থা, অগ্নিসংক্রান্ত ঘটনা, অতিরিক্ত ওজন, বিল্ডিং এবং যন্ত্রপাতির ওপর বা কাছাকাছি কাজ করা, বিস্ফোরক বা দাহ্য গ্যাস ও ধুলা, বিপজ্জনক ধোঁয়ার বিরুদ্ধে সতকর্তা, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা। শ্রমিকদের চোখের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত চশমা বা চোখের আবরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে উত্ক্ষিপ্ত বা বিচ্ছুরিত কণা বা টুকরো থেকে অথবা অতিমাত্রায় আলো বা উত্তাপের কারণে চোখের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

যেখানে শারীরিক আঘাত, বিষক্রিয়া বা গুরুতর রোগের সম্ভাবনা আছে, এমন কোনো ক্ষতিকর অপারেশনের ক্ষেত্রে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিকের জন্য সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা নিয়োগকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সরঞ্জাম দেওয়া সত্ত্বেও এটি ব্যবহার না করা হলে তার দায়িত্ব শ্রমিকের নিজের হবে। একজন নিয়োগকর্তা তার অধীনস্হ কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর একটি বাস্তব এবং প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য একটি সুরক্ষিত এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাধ্য। শারীরিক আঘাত, বিষক্রিয়া বা গুরুতর রোগের ঝুঁকি আছে এই ধরনের বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমিক চিকিত্সাসেবা প্রদান এবং কাজের জন্য উপযুক্ত প্রমাণিত না হলে তার দ্বারা ঐ কাজ করানো যাবে না। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ কাজে পরিদর্শকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রমিক দিবস পালন

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই মে দিবস সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন দিনটি পালন করতে শোভাযাত্রা, শ্রমিক সমাবেশ, আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে থাকে। মে দিবসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করে।

বর্তমানে বাংলাদেশ শ্রমিকদের অবস্থা

বাংলাদেশ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের উন্নয়নের অন্তরালে থাকে শ্রমিক-মজুরদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ব্যথা-বেদনা। কিন্তু সে অনুযায়ী শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। যাদের ঘামে একটি একটি ইট সাজিয়ে বড় বড় ইমারতসদৃশ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া আবশ্যক। শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে মে দিবস

দেশ বিভাগের পূর্বে নারায়ণগঞ্জে মে দিবস পালিত হয় ১৯৩৮ সালে । এরপর থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সীমিত পরিসরে মে দিবস পালিত হত । তবে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী লাভ করলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত বিপুল উৎসাহ নিয়ে শ্রমিকগণ মে দিবস পালন করে । প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক সেদিন আদমজীতে লাল পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল সমাবেশ করেছিল । সামরিক শাসন ( ১৯৫৮ ) জারির পূর্ব পর্যন্ত বেশ বড় আকারে সমাবেশের মাধ্যমে মে দিবস অনুষ্ঠিত হত । ১৯৫৮ সালে দাবি ওঠে ১ মে দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন করা হোক । ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পর শ্রমিক আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা সূচিত হয় । আওয়ামীলীগ ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে জয় লাভের পর শ্রমিকদের বিরাট একটি অংশ বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনকে সমর্থন করে । তখন মে দিবস এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে মে দিবস পালিত হয় । ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু থেকে মে দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেনা । এবং সেই সাথে ১ মে কে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারী ছুটির দিন ঘোষণা করেন । এবং পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে মহান মে দিবস উপলক্ষে তৎকালীন সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদানের মধ্য দিয়ে মে দিবসকে জাতীয় দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উপসংহার

বাংলাদেশে মে দিবস উদযাপন বাংলাদেশে ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয় এবং ওই দিন সরকারি ছুটির দিন থাকে । দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তাদের বাণী দিয়ে থাকেন । সরকারি - বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে শোভাযাত্রা , শ্রমিক সমাবেশ , আলোচনা সভা , সেমিনার , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে থাকে ।, তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল , ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফেডারেশন সহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করে । ২০২১ সালের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ মালিক শ্রমিক নির্বিশেষ মুজিববর্ষে গড়বো দেশ। ২০২২ সালের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ শ্রমিক - মালিক একতা , উন্নয়নের নিশ্চয়তা ’। ১৯৮৬ সালে ঐতিহাসিক মে দিবসের শতবর্ষ শেষ হয়েছে । মে দিবসের এই দীর্ঘ শতবর্ষের আলোয় অনেক অন্ধকার দূর হয়েছে । সংগ্রামী শ্ৰেণীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে নতুন দিগন্ত । দৃঢ় হয়েছে শ্রমিক সংহতি । বিশ্বের একতৃতীয়াংশ মানুষ আজ রয়েছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় । কিন্তু এখনও জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ পুঁজিবাদী দাসত্ব থেকে মুক্ত নয় । মুক্ত নয় সামন্ততান্ত্রিক শোষণ থেকে । সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আজও প্রবল , পরাক্রান্ত । এখনও তার নির্লজ্জ রণহুঙ্কার থামে নি ।। তাই দুনিয়া জুড়ে মে দিবসের যে বিজয় অভিযান সেখানে মূর্ত হয়ে উঠেছে সমাজতন্ত্রের সপক্ষে ও পুঁজিবাদ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণীর বৈপ্লবিক সংগ্রাম । এই সংগ্রামী চেতনা ও চরিত্রই শ্রমজীবীর ভূষণ । মে দিবস আজ আর শ্রমিকের কাজের ঘন্টা কমানোর দাবির আন্দোলন নয় । মে দিবস আজ দুনিয়ার মেহনতি মানুষের সংগ্রামের দিন , সৌভ্রাতৃত্বের দিন । সমাজতন্ত্র কায়েম করার শপথ গ্রহণের দিন। মে দিবস এখন শ্রমিকশ্রেণীর সামনে নতুন ঊষার স্বর্ণ দুয়ার। অনেক রক্তের বিনিময়ে পাওয়া দুর্লভ এক সম্পদ।

কৌণিক বার্তা.কম কে সাহায্য করোঃ
রচনাটি সম্পূর্ণ করার জন্য কিছু পয়েন্ট প্রয়োজন। আপনি চাইলে কিছু পয়েন্ট দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন। নতুন রচনা লিখে দিতে চাইলে দিতে পারবেন, ধন্যবাদ।


বাংলা রচনার সম্পূর্ণ তালিকা


আপনি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন 200 সেকেন্ড পর


বাংলা প্রবন্ধ রচনা তালিকা


সবগুলো #
Next Post Previous Post
মন্তব্যগুলো দেখান
মন্তব্যগুলো যোগ করুণ

আপনার মূল মান মতামতটি আমাদের জানান। আমি শালীন ভাষা ব্যাবহার করবো এবং অশ্লীল ভাষা ব্যাবহার থেকে বিরত থাকবো। কৌণিক বার্তা.কম আপনার আইপি অ্যাড্রেস ব্লকের ক্ষমতা রাখে।

comment url