রচনাঃ আমার জীবনের লক্ষ্য রচনা জীবন গঠন , চরিত্র ও নৈতিকতা বিষয়ক পিডিএফ ডাউনলোড

রচনাঃ আমার জীবনের লক্ষ্য | রচনা জীবন গঠন , চরিত্র ও নৈতিকতা বিষয়ক পিডিএফ ডাউনলোড
রচনাঃ আমার জীবনের লক্ষ্য

রচনা কি?

রচনা” শব্দের অর্থ কোনোকিছু তৈরি বা সৃষ্টি করা। কোনো বিশেষ ভাব বা তত্ত্বকে ভাষার মাধ্যমে সুস্পষ্ট  করে তোলার নামই রচনা। রচনাকে সাধারণত সৃষ্টিশীল কর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে বিষয়ের উপস্থাপনা , চিন্তার ধারাবাহিকতা , সংযত বর্ণনা , ভাষার প্রাঞ্জলতা ও যুক্তির সুশৃঙ্খল প্রয়োগ থাকে। লেখকের চিন্তা , কল্পনা ও বুদ্ধির মিলিত প্রয়াসে রচনা উৎকৃষ্ট হয়ে ওঠে।

আমার জীবনের লক্ষ্য

ভূমিকা

মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। এই ক্ষণস্থায়ী মানবজীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে গড়ে তোলার জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। লক্ষ্যহীন জীবন হালবিহীন নৌকার মতো। হালবিহীন জীবন সময়ের ঘূর্ণাবর্তে পড়ে দিশেহারা হয়ে যায়। তাই জীবনের শুরুতে একটা লক্ষ্য স্থির করে নেয়া উচিত। লক্ষ্য ঠিক রেখে শ্রম , নিষ্ঠা , অধ্যবসায় ও একাগ্রতা নিয়ে অগ্রসর হলে জীবনের সে লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। কবির ভাষায় ' সংসার সিদ্ধতে ধ্রুবতারা সমস্থির লক্ষ্য চাই , লক্ষ্যহীন জীবন তরণী কূল নাহি কভু।

লক্ষ্য স্থির করার প্রয়োজনীয়তা

আমি খুব ছোটবেলা থেকেই জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভেবেছি। তখন আমার বয়স ছিল কম। মন ছিল চঞ্চল। চারদিকে তাকিয়ে যা দেখতাম , তাতেই রোমাঞ্ছিত হতাম। আকাশে গর্জন করে বিমান উড়ে যেতে দেখে ভাবতাম , আমি পাইলট হব। স্কুলের বইতে বিজ্ঞানী নিউটন ,আলভা এডিসন বা গ্যালিলিও'র চমকপ্রদ আবিষ্কারের কাহিনী পড়ে ভাবতাম , আমি একদিন বিজ্ঞানী হব। রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুলের কবিতা পড়ে ভেবেছি , আমি একদিন তাঁদের মতো জগৎবিখ্যাত লেখক হব। একটু বড় হওয়ার পর যখন জ্ঞান - বুদ্ধি একটু বেড়েছে , তখন বুঝতে পেরেছি , ইচ্ছে করলেই যা - কিছু হওয়া যায় না। তাই আমি অনেক ভেবেচিন্তে আমার জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছি- বড় হয়ে আমি একজন ডাক্তার হব। আমার এ লক্ষ্য নির্ধারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানবসেবা।

ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিদ্যা শেখার কারণ

আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবা এখন সীমিত ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষ এখন ভালো চিকিৎসাসেবা পায় না। বড় বড় অনেক চিকিৎসকের মধ্যে এখন ব্যবসায়িক মানসিকতা ঢুকে পড়েছে। এ অবস্থা বদলানো দরকার। এজন্য চাই নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক। তাই আমি ভালো ডাক্তার হতে চাই । আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। আমি আমার জীবনের চারদিকে যে করুণ চিত্র দেখছি , তাতে সব সময় একটা বেদনাকাতর অনুভূতি আমার মনে সঞ্জীবিত হয়ে ওঠে। সেই বেদনাঘন অবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিয়ত একটা প্রচেষ্টা আমি অনুভব করি । কেননা দারিদ্র্যতার কারণে তারা বঞ্ছিত হচ্ছে সুচিকিৎসা থেকে। এছাড়া প্রতিবছর দেশের হাজার হাজার কোমলপ্রাণ অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। এসব অসহায় মানুষের জীবন , মৃত্যু নির্ভর করছে ডাক্তারদের ওপর। আর তাই এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা প্রদানের অন্যতম উপায় হিসেবে আমি এমন লক্ষ্য নির্বাচন করেছি।

লক্ষ্য অর্জনের উপায়

বর্তমানে আমি নবম শ্রেণির ছাত্রী। আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ভালোভাবে লেখাপড়া করব যাতে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি - তে জিপিএ -৫ নিয়ে পাস করতে পারি। এইচ.এস.সি পাস করার পর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হব। মেডিক্যাল কলেজে পাঁচ বছর অধ্যয়নের পর এম.বি.বি. এস পাস করে একজন দক্ষ ডাক্তার হয়ে এদেশের দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াব। আমার কর্ম জীবনের সবগুলো দিন মানবসেবায় নিয়োজিত করব। কেননা মানুষ বাঁচে কর্মে , বয়সে নয়। মানবসেবার মতো মহৎ কর্মের মাধ্যমে তাই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।

সার্থকতা

আমার একার পক্ষে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তবু আমার ইচ্ছা কোনো এক গাঁ - এর অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাদের যেন বিনা চিকিৎসায় মরতে না হয়। আজকের ডাক্তাররা যেখানে অর্থলোভী এবং শহরমুখী হয়ে পড়েছে সেখানে আমার গ্রামে যাওয়ার ফলে যদি গ্রামের দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের মনে আশার আলো ফুটে ওঠে তবেই আসবে আমার জীবনের সার্থকতা।

জীবনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা

আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য এখনই তৈরি হচ্ছি। অঙ্ক ও বিজ্ঞানের প্রতি আমার বরাবরই আকর্ষণ বেশি। স্কুলের নির্ধারিত পড়া ছাড়াও অবসর পেলে আমি বিজ্ঞানের বই পড়ি , অঙ্ক কষি । প্রকৃতির রহস্যে আমি বিস্মিত হই। নানা আবিষ্কারের কাহিনী পড়ে আমি খুব মজা পাই। তাই নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগই বেছে নিয়েছি। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে কলেজে গিয়েও আমি বিজ্ঞান পড়ব। তখন জীববিদ্যা আমার অন্যতম বিষয় থাকবে। আশা করি , নিয়মিত লেখাপড়া করতে পারলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পাব। মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে পারব বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি চিকিৎসাবিজ্ঞানের যেকোনো একটি শাখায় বিশেষজ্ঞ হওয়ার আশা পোষণ করি।

জনসেবা ও কর্মজীবন 

একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে আমি কর্মজীবন শুরু করতে চাই। সরকারি চাকরি গ্রহণ না করে স্বাধীনভাবে রোগী দেখব। এজন্য আমি গ্রামের অর্থাৎ উপজেলা পর্যায়ের স্থানকে বেছে নেব। অধিক অর্থোপার্জনের জন্য শহরই উপযুক্ত স্থান , কিন্তু আমার অর্থের প্রতি কোনো লোড নেই। শহরের ভালো ডাক্তার গ্রামে থাকতে চায় না। ফলে জটিল রোগের জন্য গ্রামের মানুষদের শহরে আসতে হয়। অথচ গরিব গ্রামের লোকদের সেই আর্থিক সংগতি থাকে না। আর্থিক অসুবিধার কারণে কত লোক বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। আমি গ্রামের সেসব হতদরিদ্র জনগণের সেবা করতে চাই। তাদের জন্য বিনা ফিতে চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকবে। ধনীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফী আদায় করব। আমার ইচ্ছা , গ্রামের মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার একটি পদ্ধতিগত মডেল তৈরি করা। যাতে চিকিৎসাসেবা - বঞ্চিত গ্রামের মানুষেরা উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা পায়।

উপসংহার 

ডাক্তারি একটি মহৎ পেশা। উকিল , ইঞ্জিনিয়ার , অর্থনীতিবিদ , ম্যাজিস্ট্রেট - এসব বর্ণাঢ্য পেশার চাইতে ডাক্তারি পেশা সম্পূর্ণ আলাদা।  ডাক্তারি পেশায় অর্থোপার্জন হয় আবার মানবসেবার প্রত্যক্ষ সুযোগও এ পেশাতে রয়েছে। তাই আমি সবদিক বিবেচনা করে একজন ডাক্তারই হতে চাই। এটাই আমার জীবনের লক্ষ্য।


কৌণিক বার্তা.কম কে সাহায্য করোঃ
রচনাটি সম্পূর্ণ করার জন্য কিছু পয়েন্ট প্রয়োজন। আপনি চাইলে কিছু পয়েন্ট দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন। নতুন রচনা লিখে দিতে চাইলে দিতে পারবেন, ধন্যবাদ।


বাংলা রচনার সম্পূর্ণ তালিকা


আপনি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন 200 সেকেন্ড পর



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url