রচনাঃ কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান / কৃষিকাজে বিজ্ঞান (১৫ পয়েন্ট) / কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ রচনা বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা ও বিজ্ঞান pdf

“রচনাঃ কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান / কৃষিকাজে বিজ্ঞান (১৫ পয়েন্ট) / কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ রচনা বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা ও বিজ্ঞান pdf রচনা সকল শ্রেণির জন্য দেওয়া হলো এসএসসি, এইচএসসি, জেডিএস, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম শ্রেণিন জন্য সহজ ভাবে লেখা হয়েছে। ” কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান / কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদানকৃ / ষিকাজে বিজ্ঞান / কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ /  বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা ও বিজ্ঞান / রচনাঃ চরিত্র ১৫ পয়েন্ট JSC SSC HSC

রচনাঃ কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান / কৃষিকাজে বিজ্ঞান (১৫ পয়েন্ট)
রচনাঃ কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান / কৃষিকাজে বিজ্ঞান (১৫ পয়েন্ট)

[ সংকেত: ভূমিকা, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা ও কৃষি, কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিসমূহ, বাংলাদেশের কৃষি ও বিজ্ঞান, কৃষি উন্নয়নে বাংলাদেশ, কৃষির গুরুত্ব, কৃষির সনাতন পদ্ধতি, বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা, উন্নতবিশ্বে কৃষিকাজ, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থা, বাংলাদেশে বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা, বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি গবেষণায় বাংলাদেশ, কৃষিতে বিজ্ঞানের ক্ষতিকর প্রভাব, উপসংহার। ]

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান/কৃষিকাজে বিজ্ঞান

ভূমিকা

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। সর্বক্ষেত্রে বিজ্ঞানের কল্যাণ-স্পর্শ জীবনকে করে তুলেছে সহজ ও আনন্দমুখর। বিজ্ঞানের ব্যবহার যত বাড়ছে জীবন তত স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখছে। বিজ্ঞানের কর্মসূচি যত বেশি সম্প্রসারিত হচ্ছে জীবনের উন্নতি হচ্ছে তত বেশি। বিজ্ঞানের এই ব্যাপক কল্যাণমুখী অবদান বিবেচনা করে একে আরও বেশি কাজে লাগানোর নিরন্তর চেষ্টা চলছে। ফলে কৃষিক্ষেত্রেও আজ বিজ্ঞানের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় কৃষিতে সূচিত হয়েছে সবুজ বিপ্লব।

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা ও কৃষি

বিংশ শতাব্দীর এ যুগ সন্ধিক্ষণে বিশ্ববাসীর কোনো কাজেই বিজ্ঞানের অনুপস্থিতি নেই। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আজ সর্বত্র অব্যাহত। বিজ্ঞানের বদৌলতে অপ্রকার ধরণী আজ আলোকাভায় ঝলমল করছে। বিজ্ঞানের বদৌলতেই আজ ঊষর মরু হয়েছে সরস ও উর্বর, দুর্গম পাহাড়ের খাড়াই-উত্রাই পরিণত হয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত সমভূমিতে, নদী পেয়েছে নতুন গতি, শুকনো ক্ষেতে চলছে জল-সিল্গুন। জগৎ ও জীবনের কর্মপ্রবাহের প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞান  চলেছে। বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন নতুন প্রজাতির ফসল উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রেও আজ বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এখন কৃষি আর প্রকৃতি-নির্ভর নেই। এক সময় একশ' কোটি মানুষের খাদ্য বিশ্ব জোটাতে পারত না আর বর্তমানে ছয়শ' কোটি বিশ্ববাসীর জন্য উৎপাদিত হচ্ছে উদ্বৃত্ত খাদ্যসম্ভার। আর তা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানেরই কল্যাণে ।

কৃষির গুরুত্ব

মানুষ এই পৃথিবীতে তার জীবন শুরু করেছিল কৃষি দিয়ে এবং এখনও মানুষের জীবন প্রবাহ কৃষির উপর নির্ভর করে।  জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে কৃষিক্ষেত্রে ক্রমাগত গবেষণা চলছে এবং এর ফলে উন্নত দেশগুলো তাদের কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।  উন্নত দেশগুলো একদিকে যেমন ফলন বাড়িয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনছে, তেমনি অভাবগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করে মানবজাতিকে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করছে।

কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিসমূহ

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের সর্বশেষ যুগান্তকারী সাফল্য হলো জীন প্রযুক্তির প্রয়োগ। Genetic Technology-র ব্যবহার করে উচ্চফলনশীল জাত ও বীজ উদ্ভাবন করা হচ্ছে, বিলুপ্তপ্রায় ফসল ও উদ্ভিদকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, খরাকবলিত এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে। পূর্বে যে জমিতে এক ফসল জন্মানো হতো সেখানে বিজ্ঞানের সহায়তায় তিন ফসল জন্মানো হচ্ছে। প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।

বাংলাদেশের কৃষি ও বিজ্ঞান

বিস্ফোরণোন্মুখ জনসংখ্যার ভারে বাংলাদেশ আজ হিমসিম খাচ্ছে। জনসংখ্যার গুরুভার সৃষ্টি করেছে প্রকট খাদ্য সমস্যা। আমাদের দেশের প্রচলিত প্রাচীন পদ্ধতির চাষাবাদের কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সমতা বজায় রেখে সম্পন উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তবে কৃষিকাজের প্রতিটি পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিব ঘটানো যেতে পারে। শিল্পোন্নত জাপানও কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের দেশের মাটির তুলনায় জাপানের মাটির স্বাভাবিক উৎপাদন এক-চতুর্থাংশ। অথচ তারা কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ অধিক ফসল উৎপাদন কর জাপানের মতো আমরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমাদের জমিতে সর্বাধিক ফসল ফলিয়ে খাদ্য সমস্যার সমাধান কা পারি। যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন, কোরিয়া প্রভৃতি দেশের কৃষিবিজ্ঞানের কৌশলও আমরা প্রয়োগ করতে পারি । আমাদের কৃষক সম্প্রদায় জমি চাষের জন্য গবাদি পশুচালিত সনাতন লাঙ্গল ব্যবহার করে। এ ব্যবসথা যেমন কষ্টকর তেমনি সময়সা এ কাজে আমরা ট্রাক্টর ব্যবহার করে অনায়াসে অধিক জমিতে চাষাবাদ করতে পারি। কৃষিক্ষেত্রের মান অনুযায়ী রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

কৃষির সনাতন পদ্ধতি

কৃষি সরাসরি মানুষের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। আদিম সমাজ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত কৃষির গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে টিকে থাকার প্রয়োজনে। প্রয়োজন যেমন উদ্ভাবন করতে অনুপ্রাণিত করে তেমনি আদিম সমাজের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কৃষির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যার মাধ্যমে তারা চাষাবাদ করত। প্রাথমিক অবস্থায় গরু, ঘোড়া, মহিষ প্রভৃতি জন্তুর সাহায্যে লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করা হতো। আবহাওয়া নির্ভরশীল কৃষি ব্যবস্থার কারণে প্রচ- খরায় ও অতিবৃষ্টিতে ফসলহানির কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিত। একই ফসল একই জমিতে ধারাবাহিক উৎপাদনের ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস পেত। ভাল ও উন্নত বীজের গুণগত মান নির্ণয় করা যেত না, যে কারণে ফসলের উৎপাদন ভাল হত না। বৃষ্টির উপর একক নির্ভরশীলতার কারণে কৃষকের ফসল পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল। সনাতন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে মাঠের ফসলের উপর বেঁচে থাকার নির্ভরতা ছিল। যার মাধ্যমে কৃষক ও কৃষির প্রাচীন পদ্ধতিতে হতাশার প্রতিচ্ছবি সহজেই অনুমেয়।

বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা

মানুষের খাদ্যের যোগান হয় কৃষি থেকে। আজ বিজ্ঞানের কল্যাণে কৃষিকাজের সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে এবং উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের সূচনা ঘটে। তখন থেকে কৃষকেরা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সাথে পরিচিত হয়। লাঙ্গল-জোঁয়াল, গরু-মহিষ এর পরিবর্তে কৃষকের হাতে আসে কলের লাঙ্গল, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। সনাতনী সেচ পদ্ধতি ও প্রাকৃতিক বৃষ্টি নির্ভরতার বিপরীতে কৃষকের হাতে এসেছে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ চালিত পাম্প ও কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর মত যন্ত্র। উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর মান নিয়ন্ত্রণসহ সঠিক বীজ নির্বাচন বিজ্ঞানের অন্যতম সাফল্য যা এখন কৃষকের হাতের নাগালে। রাসায়নিক সার আবিষ্কার ফসলের অধিক ফলনের ক্ষেত্রে এনেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

উন্নত বিশ্বে কৃষিকাজ

উন্নত বিশ্বে কৃষিকাজ একটি সম্মানজনক পেশা। কৃষির সাথে সম্পৃক্তরা সমাজের বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। কারণ কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই তাদেরকে উন্নত জীবনযাত্রা দিয়েছে, কমিয়েছে পরনির্ভরশীলতা। মাটির উর্বর ক্ষমতা নির্ণয় থেকে শুরু করে ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের কৃষি ব্যবস্থাকে অনন্য মাত্রায় স্থান করে দিয়েছে। বর্তমানে তাদের দেশের কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় একদিকে শ্রমশক্তি কম লাগছে, অন্যদিকে সময়ও কম অপচয় হচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে শীতপ্রধান দেশে তাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে শাক-সবজি ও ফলমূল উৎপাদন হচ্ছে। মরুভূমিতে বালি সরিয়ে মাটি ফেলে সেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। কোনো কোনো উন্নত দেশে একটি মেশিনে দৈনিক ১০০ একর জমি চাষ হচ্ছে। জাপানের জমির উর্বরতা বাংলাদেশের জমির চেয়ে ৩গুণ কম হওয়া স্বত্তেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে তারা বাংলাদেশের চেয়ে ৬ গুণ বেশি ফসল পায়।

অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি

বিজ্ঞান নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম চমক হলো অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। যা মানুষের সময় ও শ্রম বাঁচিয়েছে বহুগুণে। এরমধ্যে কয়েকটি হলো-

মোয়ার (শস্য ছেদনকারী যন্ত্র), রূপার (ফসল কাটার যন্ত্র), বাইন্ডার (ফসল বাধার যন্ত্র), থ্রেশিং মেশিন (মাড়াই যন্ত্র), ম্যানিউর স্প্রেডার (সার বিস্তারণ যন্ত্র), ট্রাক্টর (চাষাবাদ করার যন্ত্র)।

এছাড়াও রয়েছে মাটি পরীক্ষা করা, মাটির সাথে মিলিয়ে বীজ উৎপাদন করার আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। আর কৃষি যন্ত্রের সর্বশেষ ব্যবহার হলো আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় কম্পিউটার। এর মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তাই কৃষি এখন কম্পিউটারাইজড বিজ্ঞানের অংশ।

বাংলাদেশে কৃষি ব্যবস্থা

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। এদেশের ভূমি ও জলবায়ু অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কৃষির জন্য অনেক বেশি উপযোগী। এখানে সব রকমের ফসল আবাদ করা যায়। কিন্তু উন্নত দেশসমূহ যেখানে প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ফসল উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশের কৃষক সেখানে চেয়ে আছে বৃষ্টির পানে বলদ-জোয়াল নিয়ে। আমাদের দেশে কৃষিকাজ পেশা হিসেবে সবচেয়ে নিচুমানের পেশা মনে করা হয়। যেজন্য শিক্ষিত মহল এ পেশায় সরাসরি সংযুক্ত হয় না। আর অশিক্ষিত কৃষক যেমন জানে না বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির চাষাবাদ তেমনি জানে না আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কমে আসছে কৃষিজমি এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে পেশাদার কৃষক। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে তথাপি শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক এখনও সনাতনী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে। মূলধন, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে প্রচুর শ্রম দিয়েও বাংলার কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফসল পাচ্ছে না। আর এর একমাত্র কারণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজে পিছিয়ে থাকা।

বাংলাদেশে বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা

সীমিত সম্পদের মাধ্যমে অসীম চাহিদা মেটাতে হলে আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আমাদের দেশের এই স্বল্প আবাদী জমিতে প্রায় ১৬ কোটি জনগণের খাবার উৎপাদন সনাতনী পদ্ধতিতে অসম্ভব। তাই কাঠের লাঙ্গলকে বিদায় জানাতে হবে। কৃষকের হাতে তুলে দিতে হবে বিজ্ঞানের হাতিয়ার ট্রাক্টর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি।

বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষি গবেষণায় বাংলাদেশ

গবেষণার জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থ। দরিদ্র দেশ হওয়া স্বত্ত্বেও বাংলাদেশে কৃষি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। যেমন- BRRI (Bangladesh Rice Research Institute), ধানের জাত নিয়ে গবেষণা করে থাকে। BINA (Bangladesh Institute of Nuclear Agriculture) এ সকল প্রতিষ্ঠান কৃষির উন্নয়নে ব্যাপকতর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। মৎস গবেষণা কেন্দ্র আছে কয়েকটি। এছাড়াও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানেও কৃষি বিষয়ক গবেষণা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পাটের জীবন রহস্য উদ্ভাবন, মহিষের জীবন রহস্য উদ্ভাবন বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।

কৃষিতে বিজ্ঞানের ক্ষতিকর প্রভাব

বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার পাশাপাশি কৃষিতে কিছু ক্ষতিসাধন হচ্ছে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিকাজের মাধ্যমে। তাই বলে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই বরং সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে ক্ষতিকর বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন:অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার কৃষি জমির স্বাভাবিক উর্বরতা কমাচ্ছে যা ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং পানিতে মিশে গিয়ে মৎস সম্পদেরও ক্ষতি করছে। গ্রীষ্মপ্রধান দেশে কৃত্রিম ঘরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সবুজ শাক-সবজি চাষাবাদ গ্রিন হাউজ ইফেক্টের কারণে বায়ুম-লের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব সমস্যা একসময় বড় আকার ধারণ করে রূপ নিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে, যাতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকরা। তাই ইতিবাচক ব্যবহারই পারে অনাকাক্সিক্ষত ক্ষতি থেকে বাঁচাতে।

কৃষি উন্নয়নে বাংলাদেশ

মানুষের মৌলিক চাহিদার সবটাই যোগান দেয় কৃষি। তাই কৃষিকে অবহেলা করে বেঁচে থাকা যেমন সত্য নয় তেমনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণসাধনও অসম্ভব। তাই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা সচেতন। কৃষিব্যবস্থার সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থে এদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কৃষিকে মাধ্যমিক কৃষি মন্ত্রণালয়, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছে। সরকার উচ্চ ফলনশীল বীজ সরবরাহ করছে।

উপসংহার

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ।  এদেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা খুবই জরুরি।  কারণ আমাদের জাতীয় উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।  আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে পরস্পর নির্ভরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে পারি। মানব কল্যাণে বিজ্ঞানের ব্যবহারের অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো কৃষিবিজ্ঞান। মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি কৃষিকে আজ এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। সনাতনী পদ্ধতি থেকে কম্পিউটার এই বিবর্তনের সবচেয়ে পুরনো সাক্ষী হিসেবে কৃষি তার আদিম নামেই পরিচিত।


কৌণিক বার্তা.কম কে সাহায্য করোঃ
রচনাটি সম্পূর্ণ করার জন্য কিছু পয়েন্ট প্রয়োজন। আপনি চাইলে কিছু পয়েন্ট দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন। নতুন রচনা লিখে দিতে চাইলে দিতে পারবেন, ধন্যবাদ।


বাংলা রচনার সম্পূর্ণ তালিকা


আপনি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন 200 সেকেন্ড পর


বাংলা প্রবন্ধ রচনা তালিকা


সবগুলো #
Next Post Previous Post
মন্তব্যগুলো দেখান
মন্তব্যগুলো যোগ করুণ

আপনার মূল মান মতামতটি আমাদের জানান। আমি শালীন ভাষা ব্যাবহার করবো এবং অশ্লীল ভাষা ব্যাবহার থেকে বিরত থাকবো। কৌণিক বার্তা.কম আপনার আইপি অ্যাড্রেস ব্লকের ক্ষমতা রাখে।

comment url