বয়স্ক ভাতা - অনুচ্ছেদ

সমাজের দরিদ্র ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পরনির্ভরশীলতা কমাতে জাতীয় তহবিল থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত কিছু অর্থ নগদ প্রদান প্রক্রিয়াকে বয়স্ক ভাতা বলে। বয়স্ক ভাতা হচ্ছে একটি কর্মসূচি। বয়স্ক ভাতা প্রথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৯৭ সালে চালু হয়।

বিষয়ঃ অনুচ্ছেদ বয়স্ক ভাতা
শ্রেণিঃ Class 3 4 5 6 7 8 9 SSC HSC JSC

বয়স্ক ভাতা

বয়স্ক ভাতা - অনুচ্ছেদ
বয়স্ক ভাতা

সমাজের দরিদ্র ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পরনির্ভরশীলতা কমাতে জাতীয় তহবিল থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত কিছু অর্থ নগদ প্রদান প্রক্রিয়াকে 'বয়স্ক ভাতা' বলে।সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বয়স্ক ভাতা কর্ম সূচি বাস্তবায়ন করে। বয়স্ক ভাতা হচ্ছে একটি কর্মসূচি যা কোন দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি দুস্থ ও উপার্জনে অক্ষম এবং উপার্জনক্ষম কিন্তু স্বল্প বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবার ও সমাজে মর্যদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সমাজের ভূমিহীন ও বিত্তহীন এবং বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিক পরিশ্রমে অক্ষম নারী-পুরুষরাই এ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত। বৃদ্ধাবস্থায় এ কার্যক্রম অসহায় মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা দান করে। বয়স্ক ভাতা সরকারের একটি শুভ উদ্যোগ।

বয়স্ক ভাতা প্রথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৯৭ সালে চালু হয়। প্রথমত প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ মোট ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশন এ কর্মসূচির চালু করে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ বয়স্ক ভাতা ভোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষ জন থেকে বৃদ্ধি হয়ে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার জন প্রতি মাসিক ভাতার হার ২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ২০১৬ সাল জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা করে ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার বয়স্ক ব্যাক্তিকে প্রদান করা হয়েছিল। বর্তমানে বয়স্ক ভাতা প্রদানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।ভাতার অঙ্ক বেশি না হলেও এ ভাতা কপর্দকশূন্য অসহায় ব্যক্তিদের জীবনে ন্যূনতম হলেও স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে এনেছে। যেকোনো দেশের জন্য বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। বাংলাদেশ এ কার্যক্রমে ক্ষুদ্র আকারে চালু হলেও ইতোমধ্যে এটা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আপাতদৃষ্টিতে মাসিক ১৫০ টাকা ভাতা নিয়ে বছরে এককালীন ১,৮০০ টাকা পেলে তাদের অনেক উপকার হয়। এ ভাতা প্রাপ্তির ফলে দেশের দশ লাখ ব্যক্তির জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। সরকারের বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম তাই দেশে-বিদেশে সর্বত্রই নানাভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও কল্যাণকর ভূমিকা রাখবে। স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য একজন ব্যক্তির যে পরিমাণ আয় থাকা উচিত, বাংলাদেশের জনগণের তা নেই। তার উপর স্বাস্থ্যহীনতা, যৌবনে সঞ্চয়ের অভাব, পরিবারের অধিক লোকসংখ্যা প্রভৃতি কারণে এদেশের অসংখ্য নারী-পুরুষ বৃদ্ধাবস্থায় অসহায় ও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কর্মক্ষমতা হারিয়ে দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে এসব বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবন সায়াহ্নকাল অতিবাহিত হয়। এমতাবস্থায় তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। এ কর্তব্যবোধের প্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ সরকার বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের মতো একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা আশা করব, সরকার বয়স্ক ভাতার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে দেশের অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সাভাবিকভাবে বাঁচার ব্যবস্থা করবে।

Next Post Previous Post
মন্তব্যগুলো দেখান
মন্তব্যগুলো যোগ করুণ

আপনার মূল মান মতামতটি আমাদের জানান। আমি শালীন ভাষা ব্যাবহার করবো এবং অশ্লীল ভাষা ব্যাবহার থেকে বিরত থাকবো। কৌণিক বার্তা.কম আপনার আইপি অ্যাড্রেস ব্লকের ক্ষমতা রাখে।

comment url